“হারানো জিনের ছায়া”-এর বারোতম অধ্যায়। এটি একাদশ অধ্যায়ের ধারাবাহিকতা, যেখানে আরিয়ান ও ভিক্টর রায় সরাসরি মুখোমুখি হবে এবং গল্পে প্রথম বড় সংঘর্ষ শুরু হবে।
অধ্যায় ১২: চূড়ান্ত সংঘর্ষ
সিঙ্গাপুরের সেই গোপন দ্বীপে রাত গভীর। ল্যাবের ভেতরে অদ্ভুত আলো ঝলমল করছে। কাঁচের দেয়ালের ওপারে দেখা যাচ্ছে অর্ধেক মানুষ, অর্ধেক সিনথেটিক জীব—ভিক্টর রায়ের ভয়ঙ্কর পরীক্ষার ফলাফল।
ড. আরিয়ান রহমান দৃঢ় কণ্ঠে বললেন,
“ভিক্টর, তুমি বিজ্ঞানকে অস্ত্র বানিয়েছো। তুমি মানুষের ভবিষ্যৎকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছো।”
ভিক্টর ঠান্ডা হাসি দিয়ে উত্তর দিলেন,
“ধ্বংস নয়, আরিয়ান। আমি নতুন পৃথিবী তৈরি করছি। এমন পৃথিবী যেখানে আমি নিয়ন্ত্রণ করব। তোমার প্রযুক্তি আমার হাতে, আর তুমি আমাকে থামাতে পারবে না।”
নন্দিতা এগিয়ে এসে বলল,
“তুমি যা করছো, সেটা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। বিজ্ঞান মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য, ধ্বংস করার জন্য নয়।”
ভিক্টর তার দিকে তাকিয়ে বললেন,
“তুমি খুব আবেগপ্রবণ, নন্দিতা। কিন্তু আবেগ দিয়ে পৃথিবী চলে না। শক্তি দিয়ে চলে।”
ঠিক তখনই রুবাইয়া সাহস করে সামনে এল। তার চোখে ছিল কিশোরী দৃঢ়তা।
“তুমি ভুল করছো, ভিক্টর। আমি তোমার কোডে দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছি। আমরা তোমাকে থামাব।”
ভিক্টর হেসে উঠল।
“একজন ইন্টার্ন আমাকে থামাবে? মজার ব্যাপার।”
আরিয়ান শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বললেন,
“হ্যাঁ, রুবাইয়া তোমাকে থামাবে। আর আমরা সবাই মিলে তোমার ষড়যন্ত্র ভেস্তে দেব।”
ঠিক তখনই ল্যাবের ভেতরে অ্যালার্ম বাজতে শুরু করল। আরিয়ান ও তার টিম ভিক্টরের সিস্টেমে প্রবেশ করেছে। স্ক্রিনে ভেসে উঠল বিভ্রান্তিকর কোড, ভিক্টরের ডেটা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে।
ভিক্টর চিৎকার করে উঠল,
“তুমি ভাবছো তুমি জিতেছো, আরিয়ান? এটা শুধু শুরু। আমি আবার ফিরে আসব।”
ঘরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছাল। বিজ্ঞান, ষড়যন্ত্র, আর আবেগ—সবকিছু মিলিয়ে এখন শুরু হলো চূড়ান্ত সংঘর্ষ।
✨ এই অধ্যায়ে:
- আরিয়ান ও ভিক্টর রায় সরাসরি মুখোমুখি হলো।
- ভিক্টরের ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা স্পষ্ট হলো।
- রুবাইয়ার সাহসী ভূমিকা আরও দৃঢ়ভাবে ফুটে উঠল।
- নন্দিতার আবেগ ও আরিয়ানের নেতৃত্ব একসঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দাঁড়াল।
- রহস্য ও উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে, পাঠককে পরবর্তী অধ্যায়ে টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
No comments:
Post a Comment