নাটকের নাম: “হার্টবিট ৭২”
(রোমান্টিক ট্রায়াঙ্গেল + অ্যাকশন থ্রিলার | সময়: ~৩০ মিনিট |)
চরিত্রসমূহ (৭ জন)
নাবিল – বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র, শান্ত কিন্তু মেধাবী
সারা – সহপাঠী, বাস্তববাদী, তীক্ষ্ণ রসবোধ
তিশা – নাবিলের শৈশবের বন্ধু, আবেগী, যত্নশীল
ড. ফারুক – শিক্ষক, মেন্টর, রহস্যময়
রিফাত – বন্ধু, সব সময় জোক করে
এজেন্ট মার্ক – বিদেশি গোয়েন্দা কর্মকর্তা
এজেন্ট এলেনা – তার সহযোগী
অ্যাক্ট ১: ভবিষ্যতের স্পন্দন
মঞ্চ: বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ল্যাব। রাত। মনিটরে ECG সিগন্যাল উঠানামা করছে।
রিফাত:
তুই মানুষ না মেশিন—এটা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।
নাবিল (হালকা):
কেন?
রিফাত:
মানুষ হলে এত রাত জেগে কাজ করত না। প্রেম করত।
(সারা ঢোকে)
সারা:
সবাই প্রেম করে না, কেউ কেউ ব্রেকআপ এড়িয়ে চলে।
রিফাত:
ওহ! গভীর কথা। তুমি কি কোনো দার্শনিক বই পড়ে এসেছো?
সারা:
না, তোমার লাইফ দেখে শিখেছি।
(হালকা হাসি)
সারা (নাবিলের দিকে):
কি বানাচ্ছো?
নাবিল:
একটা লো-কস্ট বায়ো-সেন্সর। হার্ট ফেইলিউর আগেই ডিটেক্ট করতে পারবে।
রিফাত:
মানে মানুষ মরার আগেই বলবে—“ভাই, টাইম আপ”?
নাবিল:
কিছুটা সেরকমই।
(তিশা দৌড়ে আসে)
তিশা:
নাবিল! তুই খবরটা দেখেছিস?
নাবিল:
না।
তিশা:
একটা আন্তর্জাতিক রিপোর্টে তোর নাম!
(সবাই চুপ)
সারা:
কী বলছে?
তিশা (ধীরে):
“এই ছাত্র বাংলাদেশে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বড় পরিবর্তন আনতে পারে।”
হালকা হাস্যরস
রিফাত:
বন্ধুরা, এখন থেকে আমি ওর বন্ধু বলে পরিচয় দিবো।
সারা:
তুই আগে নিজের পরিচয় ঠিক কর।
(হঠাৎ ECG মনিটর অদ্ভুতভাবে বিট করতে শুরু করে)
নাবিল:
এটা তো ঠিক না…
(লাইট ফ্লিকার করে)
কৌতূহল তৈরি
সারা (ফিসফিস):
কেউ কি আমাদের সিস্টেমে ঢুকেছে?
নাবিল:
হ্যাঁ… কিন্তু কেন?
(ড. ফারুক ঢোকে)
ড. ফারুক (গম্ভীর):
নাবিল, তোমার কাজ বন্ধ করো।
নাবিল:
স্যার?
ড. ফারুক:
কারণ আজ থেকে তুমি শুধু স্টুডেন্ট না… টার্গেট।
(Blackout)
অ্যাক্ট ২: শিকার ও শিকারি
মঞ্চ: ক্যাম্পাসের বাইরে অন্ধকার রাস্তা।
রিফাত:
আমি আগে বলেছিলাম—অতিরিক্ত পড়াশোনা বিপজ্জনক!
সারা:
এই সময়েও জোক?
রিফাত:
আমি ভয় পেলে জোক করি।
তিশা:
আমি ভয় পেলে কাঁদি।
সারা:
আমি ভয় পেলে প্ল্যান করি।
(Pause)
নাবিল:
তাহলে প্ল্যান করো।
(দূরে গাড়ি থামে। এজেন্ট মার্ক ও এলেনা নামে)
মার্ক:
নাবিল, আপনি আমাদের সাথে আসবেন।
রিফাত (ধীরে):
আমরা কি ডিসকাউন্টে যেতে পারি?
এলেনা:
না।
রিফাত:
ঠিক আছে, চেষ্টা করেছিলাম।
সংঘর্ষ
নাবিল:
কেন?
মার্ক:
আপনার প্রযুক্তি বিশ্বে ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
সারা:
না, এটা জীবন বাঁচাবে।
এলেনা:
সব জীবন বাঁচানো আমাদের জন্য সুবিধাজনক না।
(Pause)
রোমান্টিক টান (Triangle)
(তিশা নাবিলের কাছে যায়)
তিশা:
তুই আমার সাথে পালা।
(সারা সামনে এসে দাঁড়ায়)
সারা:
না, সবাই একসাথে যাবো।
(দুজনের চোখে অদৃশ্য প্রতিযোগিতা)
রিফাত (ধীরে):
এই মুহূর্তে প্রেম না করলে কি সমস্যা হতো?
অ্যাকশন সিকোয়েন্স
(হঠাৎ গুলির শব্দ। সবাই ছুটে পালায়। লাইট দ্রুত বদলায়।)
টুইস্ট
(সবাই লুকিয়ে আছে। হঠাৎ দেখা যায়—ড. ফারুক এজেন্টদের সাথে কথা বলছে)
নাবিল:
স্যার…?!
ড. ফারুক:
তোমাকে বাঁচাতে হলে আমাকে এটা করতেই হতো।
(Blackout)
অ্যাক্ট ৩: হৃদয়ের সিদ্ধান্ত
মঞ্চ: একটি পরিত্যক্ত হাসপাতাল রুম।
নাবিল:
আপনি আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন?
ড. ফারুক:
না। আমি তোমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি।
সারা:
এইভাবে?
বড় সত্য
মার্ক:
নাবিলের ডিভাইস… যদি ছড়িয়ে পড়ে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিপ্লব আসবে।
এলেনা:
আর কিছু দেশের জন্য সেটা সমস্যা।
রিফাত:
মানুষ বাঁচানোও সমস্যা হতে পারে—এটা নতুন জানলাম।
রোমান্টিক ক্লাইম্যাক্স
তিশা:
নাবিল, আমি তোকে ছোটবেলা থেকে ভালোবাসি।
(নীরবতা)
সারা (ধীরে):
আমি ভালোবাসি না… কিন্তু তোকে ছাড়া ভাবতে পারি না।
রিফাত:
ভাই, এটা খুবই জটিল হয়ে যাচ্ছে।
(নাবিল চুপ করে থাকে)
শেষ পরিকল্পনা
নাবিল:
আমি সব ডেটা ক্লাউডে আপলোড করেছি।
মার্ক:
কি?!
নাবিল:
এখন এটা শুধু আমার না… সবার।
অ্যাকশন টার্ন
(হঠাৎ বাইরে সাইরেন—লোকাল ফোর্স আসছে)
এলেনা:
We’re leaving!
(এজেন্টরা পালায়)
সুখের সমাপ্তি
(নীরবতা)
রিফাত:
আমরা বেঁচে গেছি?
সারা:
মনে হয়।
তিশা (হাসে):
অবশেষে।
শেষ রোমান্স
নাবিল:
আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
(Pause)
রিফাত:
আবার টুইস্ট?
নাবিল:
আমি কারো কাছ থেকে পালাতে চাই না।
(সে সারা আর তিশার দিকে তাকায়)
নাবিল (হাসে):
আমরা তিনজন… শুরু থেকে আবার শুরু করবো।
সারা:
মানে?
নাবিল:
প্রথমে বন্ধুত্ব। তারপর দেখা যাবে।
তিশা:
এইটা safe answer।
রিফাত:
বাহ! ভাই diplomatic হয়ে গেছে।
শেষ দৃশ্য (সুখের কিন্তু কৌতূহলপূর্ণ)
(ECG সাউন্ড ধীরে বাজে—steady heartbeat)
সারা:
হার্টবিট স্টেবল।
নাবিল:
হ্যাঁ… আপাতত।
(সবাই হালকা হাসে)
(লাইট ধীরে নিভে যায়)
শেষ — এবং নতুন শুরুর ইঙ্গিত