রাতের শেষে ভোর নামে, তবু চোখে ঘুম আসে না,
তোমার কথা ভাবলেই বুকের ভেতর ঝড় থামে না।
হাত ধরার সেই মুহূর্ত—স্বর্গ নেমে আসে ধীরে,
তোমার হাসির আলোয় আমি হারাই নীরব নীড়ে।
একসাথে কাটানো ক্ষণগুলো নক্ষত্রের মতো ঝলমল,
তোমার পাশে বসলে মনে হয় পৃথিবী শুধু আমারই চল।
কিন্তু মাঝে মাঝে ভয় জাগে—শেষটা কি হবে আমাদের?
নাকি গল্প থেমে যাবে অর্ধেক পথেই, নিঃশব্দ অন্ধকারে?
তোমার চোখে যখন দেখি অন্য কারো ছায়া ভাসে,
হিংসার আগুন জ্বলে ওঠে বুকের গোপন ঘাসে।
ভাবি—তুমি কি দূরে সরে যাচ্ছো অচেনা কারো দিকে?
নাকি আমিই হারাচ্ছি তোমায় নিজের ভুলের ফাঁদে ঢুকে?
তবু যখন কাছে টানো, শরীর কেঁপে ওঠে সুখে,
ভালোবাসার সম্ভাবনা জাগে গভীর উন্মুখে।
একটি চুমুর প্রতিশ্রুতি—স্বর্গ যেন ছুঁই আমি,
তোমার স্পর্শে মিশে যায় সব অজানা অভিমানই।
কিন্তু যদি তুমি ভাঙো, বিশ্বাসের সেই সেতু একদিন,
তবে আমি কি থাকবো শুধু ভাঙা স্বপ্নের মাঝেই রঙিন?
না, আমি খুঁজে নেবো নতুন কারো চোখে আশ্রয়,
ভালোবাসার নামে আবার গড়বো অন্য এক পরিচয়।
তবু কি ভুলতে পারি তোমার সেই পুরনো ছোঁয়া?
অন্য কারো বুকে থেকেও তোমাকেই খুঁজি বেলা ফুরোয়া।
এ যেন প্রতিশোধ নয়—এক অদ্ভুত বাঁচার খেলা,
ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগে অন্য কারো মায়ার ভেলা।
তুমি যখন ঈর্ষায় জ্বলে ওঠো আমার দূরত্ব দেখে,
আমি বুঝি—এ খেলায় তুমি এখনো বাঁধা আমায় রেখে।
আমরাও ব্যবহার করি হিংসা, টান বাড়ানোর ছলে,
ভালোবাসা আর আগুন মিশে যায় একই জ্বলে।
শেষটা জানি না তবু, এই পথেই হাঁটি দুজনে,
সুখ আর সন্দেহ জড়িয়ে থাকে একই সুরের গানে।
তুমি থাকো, না থাকো—এই অনুভব অমলিন,
ভালোবাসার যুদ্ধেই আমি চিরদিনে রঙিন।
No comments:
Post a Comment