“হারানো জিনের ছায়া”-এর তৃতীয় অধ্যায়।
অধ্যায় ৩: দ্বিধা ও আবেগ
Genova Biotech-এর ল্যাবরেটরিতে রাত গভীর হলেও কাজ থামেনি। কম্পিউটার স্ক্রিনে ভেসে উঠছে জিনের মানচিত্র, আর গবেষকরা নিঃশব্দে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে টিমের সদস্যদের মনে চলছে অন্যরকম দ্বন্দ্ব।
ড. আরিয়ান রহমান একা বসে ছিলেন তার অফিসে। জানালার বাইরে শহরের আলো ঝলমল করছে। তিনি মনে মনে ভাবছিলেন—
“আমরা যে প্রযুক্তি তৈরি করেছি, সেটা মানবতার জন্য আশীর্বাদ হতে পারে। কিন্তু যদি কেউ এটাকে অস্ত্র বানায়? আমি কি সঠিক পথে এগোচ্ছি?”
ঠিক তখনই নন্দিতা দরজা ঠেলে ভেতরে এল। তার চোখে ক্লান্তি, কিন্তু ভেতরে অদ্ভুত কোমলতা।
“আরিয়ান,” সে ধীরে বলল,
“তুমি সবসময় দায়িত্বের কথা ভাবো। কিন্তু তুমি কি কখনো নিজের কথা ভেবেছো? আমরা সবাই মানুষ। আমাদেরও আবেগ আছে।”
আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর শান্ত স্বরে বললেন—
“আমি জানি, নন্দিতা। কিন্তু আমার আবেগ যদি আমাদের কাজকে দুর্বল করে দেয়?”
নন্দিতা মৃদু হাসল।
“আবেগ দুর্বলতা নয়, শক্তি। তুমি সেটা বুঝতে পারছো না।”
অন্যদিকে, সায়রা ল্যাবের কোণে বসে নিজের নোটবুক নিয়ে কাজ করছিল। তার চোখে ছিল কিশোরী কৌতূহল আর অদ্ভুত আকর্ষণ। সে মনে মনে ভাবছিল—
“স্যার সবসময় এত দৃঢ়। কিন্তু আমি চাই তিনি আমাকে গুরুত্ব দিন। আমি শুধু ইন্টার্ন নই, আমি তার টিমের অংশ।”
রাশেদ দূরে বসে সবকিছু লক্ষ্য করছিল। তার মুখে ছিল অদ্ভুত নীরবতা। মাঝে মাঝে তার চোখে এক ধরনের অচেনা ভাব ফুটে উঠছিল, যেন ভেতরে কিছু চলছে যা অন্যরা বুঝতে পারছে না। কেউই ঠিক বুঝতে পারল না—সে কি চিন্তায় ডুবে আছে, নাকি অন্য কোনো পরিকল্পনা করছে।
ঘরে মুহূর্তের জন্য নীরবতা নেমে এল। বিজ্ঞান, আবেগ, আর অদৃশ্য রহস্য—সবকিছু মিলিয়ে যেন এক অদৃশ্য ঝড় তৈরি হলো।
✨ এই সংস্করণে:
- আরিয়ানের ভেতরের দ্বিধা স্পষ্ট হলো।
- নন্দিতা ও আরিয়ানের মধ্যে আবেগের সূচনা।
- সায়রার কিশোরী আকর্ষণ ফুটে উঠল।
- রাশেদকে রহস্যময় রাখা হয়েছে, তার উদ্দেশ্য এখনো প্রকাশ পায়নি।
- রহস্য ও উত্তেজনা আরও গভীর হলো, পাঠককে পরবর্তী অধ্যায়ে টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য কৌতূহল তৈরি হলো।
No comments:
Post a Comment