“ভেসে বেড়ানো মেঘের ডায়েরি”
আজ আকাশে একটা গোপন ঘটনা ঘটল—
আমি দেখলাম, মানুষ নিচে বৃষ্টিকে নিয়ে তর্ক করল।
কেউ বলে বিজ্ঞান—জলীয় বাষ্পের খেলা,
কেউ বলে ঈশ্বরের নরম হাতের বেলা।
আমি তো মেঘ—আমি জানি দুই দিকই সত্যি কিছুটা,
সূর্যের গরমে বাষ্প উঠি, আবার ঠান্ডায় ভেঙে পড়ি হঠাৎটা।
Science বলে “condensation”, textbook-এর ভাষা,
Spirituality বলে—“আশীর্বাদ নামল, খুলে দাও আশা।”
আমি হাসি—কারণ আমি মাঝখানে ঝুলে থাকা এক কণা,
যার কোনো ধর্ম নেই, শুধু ভেসে যাওয়ার বোনা।
নিচে শহর দেখি—চট্টগ্রাম, ঢাকা, আলো আর ধোঁয়া,
ট্রাফিক জ্যামে মানুষ ভাবে—“জীবনটা কোথায় যাওয়া?”
রিকশাওয়ালা গান গায়, ফোনে প্রেম ভাঙে বারবার,
চা-ওয়ালা ভাবে—“আজকে sales হবে কি আবার?”
আমি দেখি ছাদে ছাদে মানুষ স্ক্রল করে আকাশ না দেখে,
মেঘের ছবি দেয় caption—“missing peace”—হাস্যরস মেখে।
আর দেখি গ্রাম—সবুজ ধান, পুকুরের নীরব গান,
নদীর ধারে শিশু দৌড়ায়, মাটির গন্ধে প্রাণ।
কেউ বলে—“বৃষ্টি আসবে, ধান বাঁচবে আবার,”
কেউ বলে—“মেঘ মানেই ঈশ্বরের চিঠি এবার।”
আমি হাসি, কারণ আমি তো সেই চিঠির envelope,
যেখানে জল লেখা থাকে, আর বাতাস দেয় hope।
উপরে ভেসে ভেসে আমি GPS ছাড়া ঘুরি,
কখনো পাহাড়ে ঠেকি, কখনো সাগরে ছুরি।
একবার ভাবলাম—“আমি কি cloud না influencer?”
কারণ মানুষ নিচে বলে—“এই মেঘটা বেশ aesthetic teaser!”
Science তখন পাশে এসে বলে গম্ভীর স্বরে,
“তুমি water cycle-এর অংশ, law-এর ভেতরে।”
আমি বলি—“ভাই, আমি শুধু ভেসে বেড়াতে চাই,”
সে বলে—“না না, তোমাকে rain হতে হবেই তাই।”
Spirituality তখন চোখ মেলে শান্তভাবে হাসে,
“তুমি শুধু জল না, তুমি অনুভবের ভাসে।”
আমি ভাবি—“দুজনেই ঠিক, কিন্তু আমি তো ক্লান্ত,
ভেসে থাকাই কি আমার একমাত্র contract?”
নিচে এক কৃষক আকাশ দেখে হাত জোড় করে,
“বৃষ্টি দাও মেঘ বাবা”—প্রার্থনা করে ধীরে ধীরে।
এক শহরের প্রেমিক বলে—“আজ দেখা হবে কি?”
আর আমি ভাবি—“আমি তো প্রেমও, আবার অশ্রু কি?”
হঠাৎ বাতাস বদলায়, আমার শরীর ভারী হয়,
Science বলে—“phase change শুরু হয়েছে, enjoy.”
Spirituality বলে—“এটা আশীর্বাদের সময়,”
আমি বলি—“আচ্ছা, আজ আমি নামব—এটাই হয়তো final rhyme।”
আমি পড়ে যাই নিচে, নদী, মাঠ, শহর ছুঁয়ে,
রিকশার ছাদে, স্কুলের মাঠে, কাঁধে কাঁধে ছুঁয়ে।
কেউ বলে—“বৃষ্টি এল!” কেউ বলে—“চা দাও ভাই,”
আমি মাটির সাথে মিশে ভাবি—“এটাই কি goodbye?”
কিন্তু শেষের মোচড় এখানেই—শোনো খুব ধীরে,
আমি শুধু জল নই, আমি স্মৃতি মানুষের ভিড়ে।
কারণ বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে শিশুর মুখে যখন হাসি,
সেই হাসিটাই লিখে রাখে আমার ডায়েরির ভাষি।
শহরের ব্যস্ত মানুষ হঠাৎ থেমে আকাশ দেখে,
গ্রামের মাটি গন্ধ ছড়ায় নতুন স্বপ্নের রেখে।
আমি আবার উঠব—সূর্যের তাপে, নদীর গানে,
ডায়েরি আমার কখনো শেষ হয় না এই প্রাণে।
আর তুমি যাকে বৃষ্টি বলো নিচে দাঁড়িয়ে ভিজে,
সেটাই আমার লেখা—অদৃশ্য অক্ষরে, নীরব দিগ্বিজয়ে।
No comments:
Post a Comment