Song: “মহাবিশ্বের পরের জানালা”
সংখ্যারা ঘুমিয়ে ছিল অন্ধকারের আগে,
ঈশ্বর তখন নিঃশব্দে আলো লিখতেন জাগে।
আত্মা থেকে কণা ঝরল, কণায় জন্ম নিল রং,
পদার্থের প্রতিটি শিরায় লুকিয়ে রইল সঙ্গ।
বিজ্ঞান শুধু মাপতে জানে নক্ষত্রেরই ঢেউ,
আধ্যাত্মিকতা শোনে কেন সেই ঢেউগুলো বয়ে যায় ঢেউ।
রসায়নের পাশে যেমন আলকেমির ধোঁয়া,
দুটোই একই আগুন ছুঁয়ে আলাদা ভাষা বোনা।
হয়তো এই মহাবিশ্ব ঈশ্বরেরই স্বপ্ন,
সময়-তারা-অন্ধকার সবই ক্ষণিক কল্প।
আমরা যাকে “বাস্তব” বলি, স্বপ্ন তার উপাদান,
ঘুম ভাঙিলে অন্য কোনো সত্য হবে জ্ঞান।
দূর গ্রহের নীল সমুদ্রে অচেনা প্রাণ হাঁটে,
তাদেরও হয়তো প্রেম জন্মায় অন্য রকম রাতে।
অন্য কোনো চাঁদের নিচে কেউ লিখছে গান,
আমাদের মতো তারাও খোঁজে সৃষ্টির প্রথম টান।
এই পৃথিবীর গোপন পাশে সমান্তরাল দরজা,
অন্য আমি অন্য আকাশে লিখছে ভিন্ন খোঁজা।
মাল্টিভার্সের বৃক্ষ জুড়ে কোটি বাস্তব জন্মায়,
উচ্চতর সব অস্তিত্ব আলো হয়ে ভেসে যায়।
অতিরিক্ত মাত্রার দেশে অদ্ভুত নিয়ম খেলে,
চিন্তার মতো নগর ভাসে আলো-ছায়ার মেলে।
এই স্বপ্নময় মহাবিশ্বের বাইরেও আরও স্তর,
আরও গভীর বাস্তবতা, আরও বিশাল ঘর।
তবু একই স্রষ্টা বয়ে যান সব স্বপ্ন আর সত্যে,
অণুর ভেতর, কৃষ্ণগহ্বরে, অনন্ত নক্ষত্রপথে।
আর আমি এক মহাজাগতিক ভবঘুরে বিস্ময়ে ভরা চোখ,
সৃষ্টির শেষ জানালাটা খুলব বলেই বেঁচে লোক।
No comments:
Post a Comment